• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
নীলফামারীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী”

বয়োজ্যেষ্ঠদের শিক্ষায় সৈয়দপুরে সেতুবন্ধন পাঠশালা

খুরশিদ জামান কাকন: সাপ্তাহিক ছুটির দিন। ঘড়িতে তখন বিকেল চারটা। এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা একত্রিত হতে ধরেছে। সবার হাতেই খাতা-কলম। একটি নির্মানাধীন বাড়ির উঠানে বসেছে সবাই। সেখানে একটি বোর্ড টাঙ্গানো। উপরে একটি ব্যানার ঝুলানো। ‘শিক্ষা নিবো শিক্ষিত হবো, নিরক্ষর মুক্ত দেশ গড়বো’ সংবলিত স্লোগান ব্যানারে।
একটু পরেই ক্লাস শুরু হলো। ক্লাসে বাংলা বর্ণমালা শেখানো হলো। সবাই দেখে দেখে লেখার চেষ্টা করলো। অনেকে লেখতে পারলেও কেউ কেউ পেলো না। তাদের সাহায্যার্থে এগিয়ে এলো এলাকার শিক্ষিত তরুণেরা। শ্রদ্ধাভাজন বয়োজ্যেষ্ঠদের হাতে কলমে লেখতে ও পড়তে শেখাতে দেখা গেলো তাদের। দৃশ্যটি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের খালিশা বেলপুকুর গ্রামের।
খোজ নিয়ে জানা যায় প্রতি শুক্রবার ওই এলাকায় অক্ষরজ্ঞানহীন বয়োজ্যেষ্ঠরা একত্রিত হয়। উদ্দেশ্য প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করা। সেতুবন্ধন নামক একটি সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রমের আওতায় চলছে এ কর্মসূচি। পাঠদানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সেতুবন্ধন পাঠশালা’।
প্রাথমিক শিক্ষা নিতে আসা আসিদা বেগম, রেজিয়া খাতুন, শাহের বানু একেবারে লেখতে ও পড়তে পারতেন না। সেতুবন্ধন পাঠশালায় আসার সুবাদে এখন তারা লেখতে ও পড়তে পারেন। আগে যেখানে টিপসই দিতেন এখন সেখানে তারা সাক্ষর দিতে শিখেছেন।
অপরদিকে বাছেতুন নেছা, মোহাম্মদ হামিদ, জাহানারা বেগম একটুআধটু পড়তে পারলেও লেখতে পারতেন না। এখানে আসার কল্যাণে এখন তারা বাংলা লেখতে শিখেছেন।
তৈয়ব হোসেন নামে একজন জানায়, ‘আগোত হামরা দোকানত বাকি খাছিনো। দোকানদার দাম কছিলো একখান আর খাতাত লেখিছিলো আরেকখান। হামাক সহজে ঠকেবার পাছিলো। এলা হামরা লেখিবার পাই। এখন হামাক আর কাহো ঠকেবার পাইবে না।’
হাজরা খাতুন নামে আরেকজন জানায়, ‘হামরা পড়িবার পাইছো না দেখি মানুষজন যেঠে সেঠে হামার টিপসই নিয়া বকা বানাইছিলো। এলা বেলে হামরা পড়িবার পাই। মানুষ আর হামাক বোকা বানেবার পাইবে না।’
ইতিমধ্যে সেতুবন্ধন পাঠশালার এ কার্যক্রম বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছে এ উদ্দ্যেগকে। বয়স্কদের প্রাথমিক শিক্ষার এ কর্মসূচি দারুণ আলোর সৃষ্টি করেছে পুরো ইউনিয়ন ব্যাপী।
সেতুবন্ধন পাঠশালার উদ্দ্যোক্তা ও সেতুবন্ধন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর হোসেন জানায়, ‘নিরক্ষর মুক্ত গ্রাম গড়ার প্রত্যাশাই আমাদের এ পাঠশালা। গ্রামের অশিক্ষিত মানুষদের মাঝে শিক্ষা ও সচেতনতা বোধ সৃষ্টির লক্ষে আমাদের এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।’
তিনি আরো জানান, ‘পাখি ও প্রকৃতি সুরক্ষায় কাজ করার পাশাপাশি আমরা সেতুবন্ধন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে আরো কিছু সামাজিক ও শিক্ষামূলক কাজে অবদান রাখতে চাই। এরই ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছে সেতুবন্ধন পাঠশালা। সামনে সেতুবন্ধন পাঠাগার নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে।’
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বজলুর রশিদ  জানান, ‘সেতুবন্ধনের কার্যকলাপ গোটা উপজেলা ব্যাপী বেশ প্রশংসনীয়। সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসন সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকান্ডে সর্বাত্মক সহযোগী।’
শিক্ষার আলো সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে গড়ে উঠেছে ‘সেতুবন্ধন পাঠশালা’। এ পাঠশালায় শিক্ষা গ্রহণ করছে এমন কিছু মানুষ। যারা জীবন চলার পথে উপলদ্ধি করেছেন শিক্ষার অপরিসীম গুরুত্ব। তাইতো ব্যস্ততা সত্ত্বেও আলোর পথ খুঁজে পেতে তারা সবাই একত্রিত হয়েছে সেতুবন্ধন পাঠাশালায়। উদ্দেশ্য একটাই শিক্ষা নিবো শিক্ষিত হবো, নিরক্ষর মুক্ত দেশ গড়বো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ